Simple Social Image Hover Sharing Plugin for Blogger – Blogspot

Slider

sndrk থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Video

Article

News

Technology

Life & style

Gallery

Sports

শিশুর প্রথম পাঠ হোক কুরআন মাজীদ | মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী



কুরআন মাজীদ হোক শিশুর প্রথম পাঠ

- মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী

 

অনেকে কুরআন মাজীদকে শুধু মুসলিমদের জন্য ব্যাকেট বন্ধী করে ফেলেছেন ! এটা ঠিক নয়। কেননা এ বিশ্বের সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ কুরআন প্রেরণ করেছেন সকল মানুষের জন্য। কোন বিশেষ ধর্ম-বর্ণ বা গোত্রের জন্য নয়।

 

শিশু-কিশোরদের সর্বপ্রথম কোরআনের পাঠদান করা উচিত। কোরআনের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করলে শিশুর জীবন বরকতময় হবে, হতে অত্যন্ত আনন্দময়। শিশু সৃষ্টি কর্তার অনুগ্রহ লাভ করবে। তা ছাড়া অভিজ্ঞতা বলে, শৈশবে শিশুরা অন্য বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করতে না পারলেও তারা কোরআন রপ্ত করতে পারে। শৈশবই কোরআন শেখার সর্বোত্তম সময়।

 কেননা শৈশবে শিশুর মন বিক্ষিপ্ত থাকে না, তারা পূর্ণ মনোযোগসহ কোরআন শিখতে পারে। শিশুর জীবনে এর প্রভাবও অত্যন্ত ইতিবাচক। মুসলিম সমাজ ও সভ্যতার ঐতিহ্য হলো শিশুরা কোরআনের পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করবে। কোরআন না শেখা পর্যন্ত অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানের পাঠ তাদের দেওয়া হতো না।

  


        ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘পূর্বসূরি আলেমরা কোরআন মুখস্থ না করা পর্যন্ত কাউকে হাদিস ও ফিকহ শেখাতেন না।’ (আল-মাজমু : /৩৮)

বড় হলে নিজে নিজে কোরআন পড়ে নেবে, এমন চিন্তা থেকে কেউ কেউ শিশুকে কোরআনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখে। অভিজ্ঞতা বলে, এমন শিশুদের বেশির ভাগই পরবর্তী জীবনে কোরআন শেখার আগ্রহ খুঁজে পায় না। আর কেউ আগ্রহী হলেও কাজটি তাঁর জন্য সহজ থাকে না, কঠিন হয়ে যায়।

 

 

পরবর্তী জীবনে একদিকে যেমন একাগ্রতা থাকে না, নানা কারণে মন বিক্ষিপ্ত থাকে, অন্যদিকে তেমন ক্রমেই মানুষের ব্যস্ত বাড়তে থাকে। সময়-সুযোগ বের করাই সম্ভব হয় না। ঘর, সংসার, আয়-রোজগার বহু চিন্তা মাথায় কাজ করে। এত ঝামেলা এড়িয়ে ব্যক্তির পক্ষে কোরআন পাঠের জন্য সময় বের করা এবং তাতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

পারিপার্শ্বিক কারণে শিশুর মনে যদি কোরআন শেখার ব্যাপারে ভীতি সৃষ্টি হয়, তবে তাদের বোঝাতে আল্লাহ মানুষের জন্য কোরআন শেখা সহজ করেছেন।

 

 

ইরশাদ হয়েছে, ‘কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা কামার, আয়াত : ১৭)

শুধু কোরআন নয়; বরং আমি বলব সাধারণ শিক্ষার আগে শিশুকে প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষা প্রদান করা উচিত। কেননা শিশুর মানসপটে প্রথমে যে বিষয়ের চিত্র অঙ্কিত হয়, তার প্রভাবই স্থায়ী ও সুদৃঢ় হয়। তাই শিশুকে প্রথমে দ্বিনি শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। যদি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে কোরআনের কিছু অংশ শিখিয়ে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে। তারপর কিছু দ্বিনি বই-পুস্তক ও প্রয়োজনী মাসয়ালা-মাসায়েল মাতৃভাষায় হলেও শিক্ষা দিতে হবে। আর এই শিক্ষাটুকু কোনো আলেমের তত্ত্বাবধানে হওয়া উত্তম। কেননা তিনিই প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষার সীমা ও শিক্ষা-সহায়ক বই-পুস্তক নির্ধারণের অধিক যোগ্যতা রাখেন। পাশাপাশি সতর্ক দৃষ্টিও রাখতে হবে। শিশুর ভেতর দ্বিন-পরিপন্থী কোনো বিষয় লক্ষ্য করলে বা ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সতর্ক করতে হবে। যদি মনে হয়, এটা শিক্ষার প্রভাব তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতেও দেরি করা যাবে না। কেননা আল্লাহ দ্বিনকে দুনিয়ার ওপর প্রাধান্য দিতে বলেছেন।

 

শিশুদের নেক সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই তার প্রতি যত্নবান হতে হবে। বিশেষত তার মনমানসিকতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। যেন তাদের মন পাপে আসক্ত হয়ে না পড়ে। অনেকে শৈশবে শিশুর অন্যায় আবদারগুলোকে প্রশ্রয় দেয়। যা পরবর্তী সময়ে তাকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য মা-বাবার ইসলামী শিক্ষার অনুশীলন জরুরি। তাদেরই গুনাহমুক্ত পবিত্র পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো। (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)

 

তবে শিশু প্রতিপালনে কঠোরতা পরিবর্তে নম্রতা অনুসরণ করাই বাঞ্ছনীয়। কেননা কঠোরতা শিশুর মন বিগড়ে দিতে পারে। তাদের আনন্দমুখর সুন্দর পরিবেশেই শিক্ষার সঠিক পথটি দেখিয়ে দিতে হবে। স্নেহ-মমতা শিশুকে বেশি প্রভাবিত করে শাসন ও কঠোরতার চেয়ে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) দিনের এক অংশে বের হন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। অবশেষে তিনি বনু কাইনুকা বাজারে এলেন। (সেখান থেকে ফিরে) ফাতেমা (রা.)-এর ঘরের আঙিনায় বসলেন। অতঃপর বলেন, এখানে খোকা! তথা হাসান আছে কি? এখানে খোকা আছে কি? ফাতেমা (রা.) তাঁকে কিছুক্ষণ সময় দিলেন। আমার ধারণা হলো, তিনি তাঁকে পুঁতির মালা, সোনা-রুপা ছাড়া যা বাচ্চাদের পরানো হতো, পরাচ্ছিলেন (সাজিয়ে দিচ্ছিলেন)। তারপর তিনি দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি তাকে (হাসানকে) ভালোবাসো এবং তাকে যে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসো। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১২২)

লেখক- 
মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী

সাংবাদিক ও লেখক
প্রধান শিক্ষক
ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া মাদরাসা।




Text Heare






মৃত্যুর আগাম সংবাদ পূর্বে ৪ জন ফেরেস্তা যেভাবে জানিয়ে দেয় | মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী




মৃত্যুর আগাম সংবাদ পূর্বে ৪ জন ফেরেস্তা যেভাবে জানিয়ে দেয়

-মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী


মৃত্যুর আগাম সংবাদ পূর্বে ৪ জন ফেরেস্তা যেভাবে জানিয়ে দেয়  | মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী

    -মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী


হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়।


সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে।পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না। 



অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না।

সুতরাং আমি বিদায় হলাম।


অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।


চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-

প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-

প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।


অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে

পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন।



তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন।


হে আল্লাহ তুমি রাহমানের রহিম, তুমি দয়ালু, তুমি আমাদের সবাইকে খাঁটি মুসলমান না বানিয়ে কবরে নিও না।


(আমিন)


লেখক- 

মাওলানা ইসমাইল হোসাইন আজাদী

সাংবাদিক ও লেখক

প্রধান শিক্ষক

ভবানীগঞ্জ এনায়েতিয়া মাদরাসা

সদর-লক্ষ্মীপুর।








Ebtedayee Somaponi Examination 2018 || Bangla Suggestion || ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী বাংলা সাজেশন

Ebtedayee Somaponi Examination 2018 || Bangla Suggestion

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী বাংলা সাজেশন
ইসমাইল এইচ খান



★
রচনা:
(১).পিতার প্রতি কর্তব্য।
(২).বাংলাদেশী সোনালী আশ।
(৩).সময়ের মুল্যে।
———
কবিতা:
(১).মুনা জাত।
(২).শিক্ষকের মর্যাদা।
(৩).রাখাল ছেলে।
(৪).বাংলা ভাষা।

সারমর্ম:-
(১) নাতে রাসুল।
(২) বাংলা ভাষা।
(৩) শিক্ষকের মর্যাদা।
 (৪) মা।
——

যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:-
(১).মাছে ভাতে বাঙালি কথাটির অর্থ কি? আমাদের কে কেন মাছে ভাতে বাঙ্গালী বলে ?
(২) বিদায় হজ্জের ভাষণের মুল বক্তব্য নিজের ভাষায় শিখ?
———
যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:-
(১).আপন হাতের মুঠোয় পুরে কথাটির অর্থ কি?
(২). নবীর শিক্ষা কবিতা থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?
(৩).রাখাল ছেলে কবিতায় পল্লী প্রকৃতির কি কী ফুটে উঠেছে?
———

ব্যাখ্যা:-
(১).চ ালাও সে পথে যে পথে তোমার
(২). ভালো মন্দ দোষ গুন আধার রাতে ধরে--ব্যাকরণ
———
 (১). পদ কাকে বলে।পদ কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের একটি করে উদাহরণ দাও?
(২).ব্যাকরণ কাকে বলে ? ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা কি?
(৩). ক্রিয়া কাল কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি?
(৪).ভাষা কাকে বলে? ভাষা কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের একটি করে উদাহরণ দাও?

Ebtedaee Somaponi Examination Preparation 2018 || Subject : English

Ebtedaee Somaponi Examination Preparation 2018

Subject : English

Read the given text carefully and answer the questions 5, 6, 7, 8 and 9 :

Casabianca was a little boy. He was only thirteen years old. Though he was a little boy, he was punctual and dutiful. His father was a military officer. One day Casabianca was in a ship with his father,� The ship was suddenly attacked by the enemy. leis -father posted him at a place on the deck and told him not to move. The enemy killed his father. The ship�: went on fire. The boy kept standing on the burning �deck. Everybody fled from the fire. But Casabianca did not leave the place without his father�s order. He stood firm and waited for his father. He did not know that his father was lying dead. He called his father again and again. But no reply came. The flames of the fire soon covered him. �The boy stood firm and fell into death.



5. Write only the question number and the answer letter. 1 x 10 = 10 

(f) The ship � fire except Casabinaca.
i. caught ii. was
iii. on iv. is
Answer : i. caught


(g) The boy kept standing on the burning deck. Here standing is �.
i. adjective
ii. noun
iii. verb
iv. adverb
Answer : i. adjective

(h) � fled from the fire.
i. All
ii. None
iii. No one
iv. A few
Answer : i. All

(i) Casabianca � the place.
i. did not leave
ii. left
iii. was leaving the place
iv. will leave
Answer : i. did not leave

(j) Casabianca did not know that his fath was lying �.
i. dead
ii. asleep
iii. alive
iv. none of these
Answer : i. dead

সন্তানকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখুন !

সন্তানের মানষিক বিকাশের হালচাল- পর্ব-2
 ------------------------- ইসমাইল এইচ খান ------------------------

সন্তানকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখুন !
শুধু ব্লু হোয়েল নয় অধিকাংশ গেমস ই ক্ষতিকারক !
সন্তান কি করছে তা সার্বক্ষণিক মনিটর করা একজন দায়িত্বশীল অভিভাবকের পরিচয় ।



দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, একশ্রেণীর প্রগতিবাদী নামের দুর্গতি সৃষ্টিকারীরা শিশু স্বাধীনতা বা নারী স্বাধীনতার নামে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে !


তাই এসব বিষয়ে এখনই আমাদের সতর্ক হওয়া জরুরী ।
লেখক- প্রধান শিক্ষক, অত্র মাদরাসা



আশুরার ইতিহাস



মাওলানা ফয়সল আহমদ জালালী

আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারাহ’ ধাতু থেকে এসেছে। ‘আশারাহ’ শব্দের অর্থ হলো দশ। দশম দিবসে আশুরা পালিত হয় বলে একে আশুরা বলে। আর তা হলো মহররম মাসের দশ তারিখে। কেউ কেউ মনে করেন, এই দিন আল্লাহ তায়ালা দশজন নবীকে সম্মানিত করেছিলেন বলে একে আশুরা নামে অভিহিত করা হয়। আশুরা দিবসটির তাৎপর্য প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। ইহুদিরা আশুরা দিবসে রোজা রাখত। কারণ এই দিন নবী মূসা আ: ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। মক্কার মুশরিকরাও আশুরা দিবসে সাওম পালন করত। কারণ তারা দাবি করত তারা ইবরাহিম আ:-এর অনুসারী। হজরত ইবরাহিম আ: এই দিনে জন্মলাভ করেছিলেন; এই দিনেই তিনি নমরুদের আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। এ ছাড়া আশুরা দিবসে আর যেসব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল তা হলো : এই দিন আদি পিতা হজরত আদম আ: এর তওবা কবুল হয়েছিল।

হজরত নূহ আ:-এর জাহাজ তীরে ভিড়েছিল। ঈসা রুহুল্লাহর জন্ম এই দিনে এবং আকাশে এই দিন তাকে উত্তোলন করা হয়েছিল। ইউনুস আ: কে মাছের পেট থেকে মুক্ত করা হয়েছিল এবং তার কওমকে আজাব থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। হজরত ইউসুফ আ: কে কুয়া থেকে উঠানো হয়েছিল। হজরত আইয়ুব আ: দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে এই দিন আরোগ্য লাভ করেছিলেন। হজরত ইদ্রিস আ: কে আকাশে উত্তোলন করা হয়েছিল। হজরত সুলায়মান আ: এই দিন সিংহাসনে আবার অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
আশুরা দিবসের ফজিলত : আশুরা দিবসে সাওম পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সা: নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার সাওম ফরজ ছিল বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার সাওম ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবুও তার সওয়াবে কমতি নেই। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম সিয়াম হলো মহররম মাসের সিয়াম। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম সালাত হলো তাহাজ্জুদের সালাত’ (মুসলিম আস-সাহিহ, ১ম খণ্ড ৩৫৮)। আরো বর্ণিত আছে, ‘আশুরা দিবসের সাওম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এর ফলে আগের বছরের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (মুসলিম, প্রাগুক্ত) 
আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জাহিলিয়া যুগে কুরাইশরা আশুরা দিবসে সাওম পালন করত। রাসূলুল্লাহ সা: ও সে কালে সাওম পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি সাওম পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিলেন। রমজানের সাওমের আদেশ নাজিল হলে আশুরা দিবসকে বর্জন করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক আর চাইলে তা বর্জন করুক। (বুখারি, আস-সাহিহ, ১ম খণ্ড, পৃ: ২৬৮)।

আশুরা ছিল ইহুদিদের ঈদ দিবস : হজরত আবু মুূসা আল আশআরি রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আশুরা দিবসকে ইহুদিরা ঈদ হিসেবে গণ্য করত। নবী করিম সা: তা দেখে মুসলিমগণকে নির্দেশ দিলেন, তোমরা এই দিন সাওম পালন করো। (বুখারি, প্রাগুক্ত)।
আশুরার সাওমের অবস্থান : আশুরা সাওমের অবস্থান সম্পর্কে খোদ সাহাবায়ে কিরামের যুগে বিতর্ক জমে উঠেছিল। কেউ একে ওয়াজিব, কেউ সুন্নত আবার কেউ এর বিপরীত একে হারাম বা মাকরুহও আখ্যায়িত করেছিলেন। এক হজের মওসুমে মুআবিয়া রা: বিশেষ করে মদিনার আলেমগণকে ডেকে বললেন, (কারণ তাদের মধ্যে এর চর্চা ছিল বেশি) হে মদিনাবাসী, তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলতে শুনেছি তিনি এ দিবসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এটি আশুরা দিবস। আল্লাহ এ দিবসের সিয়াম তোমাদের ওপর ওয়াজিব করেননি। তবে আমি এই দিনে সাওম পালনকারী কারো ইচ্ছা হলে সাওম পালন করবে আর কারো ইচ্ছা হলে তা বর্জন করবে। (বুখারি, প্রাগুক্ত, সাওম অধ্যায়)।

আশুরার দিবস নির্ণয়ে বিতর্ক : আশুরার দিবস কোনটি এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য রয়েছে। হাদিস শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ভাষ্যকার আল্লামা আইনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়িন ও তৎপরবর্তীকালের জমহুর ওলামার মতে, আশুরার দিবস হলো, মহররম মাসের দশম দিবসে। তবে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রা:-এর মতে, তা হলো নবম দিবসে। কোনো কোনো সাহাবির মতে, তা হলো মহররমের একাদশ দিবসে আবু ঈসহাক উপরিউক্ত তিন দিনই সাওম পালন করতেন। আর বলতেন, আশুরা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে আমি এ তিন দিন সাওম পালন করি। (পাদটিকা সহিহ বুখার, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬৮)।

আশুরার সাথে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী দিন সাওম পালন : বর্ণিত আছে আশুরায় মদিনার ইহুদিদের সাওম পালন করা দেখে রাসূলুল্লাহ সা: তাদের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তারা বলেছিল এটি একটি পুণ্যময় দিবস। বনু ইসরাইলকে আল্লাহ তায়ালা এই দিন শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। ফলে মুসা আ: এই দিন সাওম পালন করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা: শুনে বললেন, তোমাদের থেকে আমি মুূসার অনুকরণের উপযুক্ত বেশি। (বুখারি, প্রাগুক্ত)
তবে হুবহু ইহুদিদের অনুকরণ রাসূলুল্লাহ সা: পছন্দ করতেন না। তাই তিনি বলেছিলেন, তোমরা আশুরা দিবসে সাওম পালন করো। সেই সাথে এর আগে এক দিন অথবা পরে এক দিন সাওম পালন করো। সাওম পালনে তোমরা ইহুদিদের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করো না। (তাহাবি, শারহু মাআনিল আছার, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৮৬)। এ কারণে আল্লামা ইবনুল আবিদীন শামী ও ইবনুল হুমামের মতে, শুধু আশুরা দিবসে সাওম পালন মাকরূহে তানযীহী (ইদাহুল মিশকাত, ২য় খণ্ড ৬৭৭)।

হুসাইন রা:-এর শাহাদাত : আশুরার মহিমা বহু আগ থেকে চলে আসছে। কিন্তু ইসলামি ইতিহাসের একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা শাহাদাতে হুসাইন রা: কাকতালীয়ভাবে এ মহান দিনে সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি মহা বিষাদ সিন্ধু। আশুরার মহিমাকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা কালিমাযুক্ত করেছিল। বাতিলের বিরুদ্ধে আপসকামী না হওয়ায় ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইনকে শির দিতে হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনা যেন আশুরার মহিমাকে ম্লান করে দিয়েছিল। আজ অনেকের কাছে আশুরা বলতে কারবালার এ নির্মম ঘটনাকে বোঝায়। এ যেন মহা তরঙ্গের নিচে সাধারণ একটি তরঙ্গের হারিয়ে যাওয়া। আল্লাহর লীলাও বোঝা বড় কঠিন। যে দিন বিশ্বের মহা প্রতাপশালী জালিম ফিরাউনের হাত থেকে আল্লাহ তায়ালা সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক মুসা আ: কে নিষ্কৃতি দিলেন সে দিনই ঘটল ইসলামের ইতিহাসের এ ঘৃণ্য যবনিকাপাত। ফেরাউন ও মুসার দ্বন্দ্ব ছিল আল্লাহর রবুবিয়্যাত নিয়ে- আল্লাহকে স্বীকার করা ও অস্বীকার করা নিয়ে এ দিকে হুসাইন রা: এর লড়াই ছিল জালিম শাহির বিরুদ্ধে। এতে রাজনৈতিক মতবিরোধও ছিল। 
কুসংস্কার : আশুরা দিবসে ইয়াজিদকে গালাগাল করার মধ্যে কোনো সওয়াব নেই। হুসাইনি চেতনা বহন করার মধ্যে রয়েছে ঈমানি শক্তির উপাদান। এ উপলক্ষে বিশিষ্ট সাহাবি মুআবিয়া রা:-কেও কিছু লোক সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ তিনি ছিলেন ইয়াজিদের পিতা। আমাদের মনে রাখতে হবে মুআবিয়া রা: ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় সাহাবি। সাহাবিদের সমালোচনা ও তাদের গালমন্দ থেকে বিরত থাকতে রাসূলুল্লাহ সা: স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তাজিয়া মিছিল করা শিয়াদের একটি অপসংস্কৃতি। 
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা কারবালা ও এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে মধ্যপন্থী। অনেককে দেখা যায়, আশুরা দিবসে সাওমের পরিবর্তে খিচুড়ি খাওয়ার অনুষ্ঠান করে তা বিলিয়ে দেন। এটিও সুন্নাহর বিপরীত একটি বদরুসুম। 
লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস